শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি দূর পরবাসজার্মানির ১২৫ বছরের পুরোনো বৈদ্যুতিক রেলপথ ভ্রমণলেখা: মো. ইকরাম হোসেন, জার্মানিপ্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৫৫ পড়াশোনার উদ্দেশ্যে জার্মানিতে এসে অনেক কিছুই দেখেছি। কিন্তু কিছু জায়গা আছে, যেগুলো শুধু জায়গায় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ইতিহাস, মানুষের আবিষ্কার আর এক শতাব্দীর বেশি পুরোনো কোনো গল্প। এবার তেমনই এক অভিজ্ঞতা হলো জার্মানির ভুপারটাল সোয়েবেবানে (Wuppertal Schwebebahn) চড়ে।
প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, এটি যেন কোনো কাল্পনিক সিনেমার দৃশ্য। একটি ট্রেন রেললাইনের ওপর চলছে না; বরং রেললাইনের নিচে ঝুলে আকাশের ওপর দিয়ে ছুটে যাচ্ছে! আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো এই অদ্ভুত সুন্দর পরিবহনব্যবস্থা আজকের নয়! ২০২৬ সালে এর বয়স ১২৫ বছর হয়েছে। ১৯০১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রী পরিবহনের জন্য চালু হয়েছিল ভুপারটাল সোয়েবেবান। আজও এটি নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করছে।
উনিশ শতকের শেষ দিকে ভুপারটাল অঞ্চলে শিল্পায়ন দ্রুত বাড়ছিল। জার্মানির এনআরডব্লিউ স্টেটের এলবারফেড ও বারমেন শহর তখন দ্রুত বড় হয়ে উঠছিল। মানুষের আনাগোনা বাড়ছিল, শিল্পকারখানা বাড়ছিল আর পাশাপাশি রাস্তায় যানবাহনের চাপও বাড়ছিল। কিন্তু শহরটি ছিল একটি সরু উপত্যকার মধ্যে। চারপাশে পাহাড়, নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে নদী। নতুন রাস্তা তৈরি করার জায়গা কম ছিল, আর মাটির নিচে পাতালরেল তৈরি করাও সহজ ছিল না।
তখনই জার্মান প্রকৌশলীরা ভাবলেন, কেমন হবে, যদি রাস্তা দিয়ে নয়, নদীর ওপর দিয়ে ট্রেন চালানো যায়? এই ধারণার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যুক্ত ছিলেন জার্মান প্রকৌশলী অয়গেন ল্যাঙেন। তাঁর নকশা অনুসারে তৈরি হতে শুরু করল এক অভিনব ঝুলন্ত রেলওয়ে (Hanging Railway), যা পৃথিবীর সর্বপ্রথম মনো সাসপেনশন রেলওয়ে।
১৮৯৮ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথম পরীক্ষামূলক যাত্রা হয় একই বছরের ৫ ডিসেম্বরে। এরপর আসে আরও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
২৪ অক্টোবর ১৯০০ সালে তখনকার এবং জার্মানির ইতিহাসে সর্বশেষ জার্মান সম্রাট কাইজার উইলহেম দ্বিতীয় এবং তাঁর স্ত্রী এ ট্রেনে পরীক্ষামূলক যাত্রা করেন। সেই ঐতিহাসিক যাত্রার গাড়িটিই পরে পরিচিত হয় কাইজার ওয়াগেন নামে। অবশেষে ১ মার্চ ১৯০১ সালে সাধারণ যাত্রীদের জন্য সোয়েবেবান চালু হয়। পুরো রুটটি পরবর্তী সময়ে ১৯০৩ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ হয়।