চীনে ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়া তরুণদের কাছে অনেকটা পথপ্রদর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বিয়াও শিয়াং (৫৪)। তিনি নৃবিজ্ঞানের একজন অধ্যাপক। কেউ কেউ তাঁকে ‘আইডল’ বলে মনে করেন। কারও ভাষায় বিয়াও ‘স্বর্গ থেকে পাঠানো এক তারকা’।

দেশটিতে অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে অনেক বিষয় জেন-জি প্রজন্মকে ভাবিয়ে তুলছে। এর মধ্যে আছে চাকরি, প্রেমের সম্পর্কের সম্ভাবনা ও অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চাপ। এমন পরিস্থিতিতে অধ্যাপক বিয়াও তরুণদের উদ্বেগ ও তা মোকাবিলার দিকনির্দেশনা দেন।

জার্মানিতে বসবাসরত বিয়াও শিয়াং ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল অ্যানথ্রোপলজির পরিচালক। তিনি চীন ও এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করেন।

শিয়াং মনে করেন, চীনা সমাজ বর্তমানে পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে আছে। দ্রুত সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর পাশাপাশি মানুষ জীবনের অর্থ খুঁজছে। কারণ, চীনা সমাজে বৈপরীত্য স্পষ্ট। ব্যাপক অগ্রগতি সত্ত্বেও তরুণরা হতাশ। এসবের পেছনে কী কাজ করে, সেটি বিশ্লেষণ করাই তাঁর কাজ।

চীনের নেতা শি জিনপিংও সামাজিক বৈপরীত্যের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, উন্নত জীবনের জন্য মানুষের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং ভারসাম্যহীনর বিষয়টি প্রধান দ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছে।

এই পরিস্থিতির পেছনে থাকা বিষয়গুলো সহজে মনে রাখার জন্য শিয়াং কিছু শব্দ ব্যবহার করেন। এর একটি হলো ‘ফ্লোটিং’। টিকে থাকার জন্য যারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে তাদেরকে তিনি ফ্লোটিং হিসেবে চিহ্নিত করেন। এ ধরনের মানুষ অনেকটা হামিংবার্ডের মতো। তারা মাঝ আকাশে স্থির থাকতে ক্রমাগত ডানা ঝাপটায়।