তার ছোট্ট দুটো হাতের মুঠোয় তুলে দেওয়া হলো রঙিন একটি নতুন স্কুলব্যাগ, খাতা আর পেনসিল। বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল সেই উপহারের দিকে, যেন নিজের ভাগ্যকেই বিশ্বাস করতে পারছিল না। কত দিন হয়তো সে ছেঁড়া ব্যাগে বই ভরেছে, আধভাঙা পেনসিলে লেখার চেষ্টা করেছে; আর আজ সেই ছোট্ট বুকে আছড়ে পড়ল অসীম এক আনন্দের ঢেউ। প্রণব এক হাতে ব্যাগটি বুকে চেপে ধরল, ঠিক যেমন মায়েরা পরম যত্নে তাঁদের সন্তানকে আগলে রাখেন।

প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’–এর অংশ ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধুরা গিয়েছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলার উদালিয়া চা-বাগানে অবস্থিত আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে চিকনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট তিনটি বিদ্যালয়ের প্রায় ১০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে নতুন স্কুলব্যাগ, খাতা, পেনসিল, রাবার, শার্পনার, স্কেল, পেনসিল বাক্স ইত্যাদি শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন বন্ধুরা।

চট্টগ্রাম বন্ধুসভার একটি ভালো কাজ।বিতরণ অনুষ্ঠানের শুরুতে বন্ধুসভার বন্ধু ও জাহানারা মমতাজ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পল্লবী খাস্তগীর বলেন, ‘সন্তানদের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ থাকবে না। চা-শ্রমিকদের সন্তান বলে আলাদা কোনো ট্যাগ থাকবে না। এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শুধু উদালিয়া চা–বাগানেই আলো ছড়াবে না, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পেলে একদিন বড় হয়ে নিজেদের চিকিৎসক, প্রকৌশলী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে দেশজুড়ে।’

ফটিকছড়ির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এস এম আক্কাছ প্রথম আলোর স্লোগান সবার মধ্যে তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ‘যা কিছু শুভ, সুন্দর ও ভালো তার সঙ্গে প্রথম আলো; যা কিছু অশুভ, অসুন্দর ও কালো, তার বিরুদ্ধে প্রথম আলো। পাহাড় সমতলের বিভেদ কাটিয়ে সবাইকে একই কাতারে দাঁড় করানোর জন্য প্রথম আলোর ভূমিকাকে সাধুবাদ জানাই।’

চট্টগ্রাম বন্ধুসভার একটি ভালো কাজ।‘সবুজ পাতার আড়ালে যে মানুষগুলো রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে গোটা জীবনটাই পার করে দেন, তাঁদের নীরব দীর্ঘশ্বাসের খবর কজনই–বা রাখে? দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকার হাড়ভাঙা শ্রমে যেখানে দুমুঠো ভাতের সংস্থান করতেই নাভিশ্বাস ওঠে, সেখানে ছোট সন্তানের হাতে একটা নতুন খাতা কিংবা পেনসিল তুলে দেওয়া যেন এক অসম্ভব বিলাসিতা।’ চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধুদের কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আবেশ দাশ আরও বলেন, ‘এতে করে নতুনভাবে পড়াশোনা করার উৎসাহ–উদ্দীপনা ফিরে পাবে শিক্ষার্থীরা।’

কালাপানি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিক্রম দাশ বন্ধুসভার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা উপহার পেয়ে খুশি হয়েছে। এখন তারা নিয়মিত স্কুলে আসার উৎসাহ খুঁজে পাবে।’