শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬Loginবন্ধুদের লেখাকার্যক্রমফিচারখেলাক্যারিয়ারমনোবন্ধুফটো ফিচারবন্ধুসভা সম্পর্কে ফিচারগ্রামের বৈঠকখানা কোথায় হারিয়ে গেললেখা: মো. আবুল বাশারপ্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ৩০ প্রতীকী ছবিহুমায়ূন আহমেদের ‘ছেলেবেলা’ পড়লে বোঝা যায়, মানুষের স্মৃতিতে শৈশব কতটা গভীরভাবে থেকে যায়। সময় চলে যায়, মানুষ বড় হয়, কিন্তু কিছু দৃশ্য থেকে যায় আগের মতোই। একটি উঠান, কয়েকটি মোড়া, সন্ধ্যার আলো আর গল্পে মগ্ন কয়েকজন মানুষ। গ্রামবাংলার সেই দৃশ্যেরই একটি নাম ছিল বৈঠকখানা।যেখানে দরজায় কড়া নাড়তে হতো না, অনুমতি লাগত না; বিকেলের আলো গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই মানুষ আপনা–আপনি সেখানে জড়ো হতো।
এখন সেই বৈঠকখানাগুলো কোথায়?কোনোটি তালাবদ্ধ। কোনোটি গোয়ালঘর। কোনোটি ভেঙে সেখানে উঠেছে পাকা দালান। আর কোনোটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু মানুষ নেই। ঘর আছে, অথচ বৈঠক নেই।
একসময় গ্রামের বাড়িতে বৈঠকখানা ছিল একধরনের সামাজিক প্রতিষ্ঠান। বাড়ির মূল বসতঘর থেকে খানিকটা আলাদা, সাধারণত উঠানের পাশে বা রাস্তার ধারে একটি ঘর। কাঠের পিঁড়ি, পুরোনো মোড়া, বাঁশের মাচা কিংবা মাটির চৌকি। এই সামান্য আয়োজনেই জমে উঠত গ্রামের সবচেয়ে বড় সংসদ।
সেখানে রাজনীতি নিয়ে তর্ক হতো, কৃষি নিয়ে আলাপ হতো, কারও গরু হারালে খোঁজের পরিকল্পনা হতো, কারও মেয়ের বিয়ের কথা উঠত। আবার কোনো কোনো দিন কোনো বিষয়ই থাকত না। তবু মানুষ আসত।
বৈঠকখানার সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিল সময়। মানুষের হাতে তখন সময় ছিল। সন্ধ্যা নামার পর টেলিভিশনের রিমোট নিয়ে যুদ্ধ ছিল না, হাতে স্মার্টফোন ছিল না, নোটিফিকেশনের শব্দে কথোপকথন থেমে যেত না। একজন গল্প শুরু করলে অন্যজন মাঝপথে উঠে চলে যেত না। গল্পের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করার অভ্যাস ছিল মানুষের।
একজন বৃদ্ধ কৃষক হয়তো বলতেন, এ বছর ধানের ফলন ভালো হবে। পাশ থেকে কেউ বলতেন, ‘না, আকাশের মতি ভালো নয়।’ আরেকজন শুরু করতেন তাঁর যৌবনের গল্প। সেই গল্পের সঙ্গে যুক্ত হতো আরেক গল্প। এভাবেই একটি সন্ধ্যা কখন যে রাত হয়ে যেত, কেউ টের পেত না।