রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬Loginবন্ধুদের লেখাকার্যক্রমফিচারখেলাক্যারিয়ারমনোবন্ধুফটো ফিচারবন্ধুসভা সম্পর্কে কার্যক্রমগোবিপ্রবি বন্ধুসভার ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রে তুর্গেনেভের ‘মুমু’লেখা: গালিবা সোয়ারাপ্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯: ০০ গোবিপ্রবি বন্ধুসভার ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রের আসর।রাশিয়ান লেখক ইভান তুর্গেনেভের (১৮১৮-১৮৮৩) কালজয়ী ছোটগল্প ‘মুমু’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে গোবিপ্রবি বন্ধুসভা। সম্প্রতি ভার্চ্যুয়ালি এটি অনুষ্ঠিত হয়। পাঠচক্রে গল্পটির কাহিনি, চরিত্র, সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং মানুষের ভালোবাসা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ছোট্ট অথচ অসাধারণ এ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র গেরাসিম একজন বোবা ও বধির, শক্তিশালী ও সরল যুবক। তাকে গ্রাম থেকে এনে এক নিষ্ঠুর জমিদারনির বাড়িতে কাজ দেওয়া হয়। সেখানে সে তাতিয়ানা নামের এক মেয়েকে ভালোবাসে। কিন্তু জমিদারনির ইচ্ছায় তাতিয়ানাকে অন্য একজনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। তাতিয়ানা চলে যাওয়ার পর গেরাসিম একটি অসহায় কুকুরছানাকে উদ্ধার করে। তার নাম দেয় ‘মুমু’। মুমুই হয়ে ওঠে গেরাসিমের একমাত্র আপনজন। কিন্তু জমিদারনি মুমুকে পছন্দ না করায় তাকে মেরে ফেলার নির্দেশ দেয়। বাধ্য হয়ে গেরাসিম নিজ হাতেই মুমুকে নদীতে ডুবিয়ে দেয়। এরপর গেরাসিম সব ছেড়ে নিজের গ্রামে ফিরে যায়। আগের মতো কাজ করলেও তার জীবনে আর হাসি বা আনন্দ ফিরে আসে না। মুমুকে হারানোর সঙ্গে যেন তার জীবনের শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে যায়।
লেখক ইভান তুর্গেনেভের ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক অভিজ্ঞতার সঙ্গেও গল্পটির সামাজিক বাস্তবতার যোগসূত্র রয়েছে। তাঁর পরিবার ছিল জমিদার শ্রেণির। ছোটবেলা থেকেই তিনি জমিদারি ব্যবস্থার কঠোরতা ও কৃষকদের ওপর অত্যাচার প্রত্যক্ষ করেছেন। সে অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রভাব ফেলেছিল। ‘মুমু’ লেখার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন রাশিয়ার জমিদারি ও দাসপ্রথার অমানবিকতা তুলে ধরা। গেরাসিমের মতো শক্তিশালী মানুষও নিজের জীবন, ভালোবাসা কিংবা প্রিয় প্রাণীটির বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। একজন জমিদারনির ইচ্ছাই তার জীবনের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে।
গোবিপ্রবি বন্ধুসভার ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রের আসর।গল্পটি পড়ে দুটি বিষয় বিশেষভাবে মনে হয়েছে। প্রথমত, সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় শ্রেণিবিভক্ত সমাজে শোষণ ও নিপীড়নের ভয়াবহতা। দ্বিতীয়ত, মানুষ কিছু না কিছুকে আশ্রয় করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। সে আশ্রয় হতে পারে কোনো মানুষ, একটি অবলা প্রাণী, কোনো আদর্শ কিংবা অন্য কিছু। কিন্তু সেই আশ্রয়টুকুও যদি তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে মানুষটি বেঁচে থেকেও যেন একটি জীবন্ত লাশ হয়ে যায়। ‘মুমু’ মনে করিয়ে দেয়, মানুষ শুধু খাবার, কাজ আর বেঁচে থাকার জন্য বাঁচে না; তার প্রয়োজন ভালোবাসা, আশ্রয়, মর্যাদা ও স্বাধীনতা। এগুলো কেড়ে নিলে মানুষ হয়তো বেঁচে থাকে, কিন্তু তার ভেতরের মানুষটি আর বেঁচে থাকে না।
সভাপতি আহনাফ শাহরিয়ার বলেন, ‘“মুমু” আমাদের শোষণ, নিপীড়ন ও মানুষের স্বাধীনতার গুরুত্ব সম্পর্কে ভাবতে শেখায়। সাহিত্যপাঠের মাধ্যমে এমন মানবিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে।’
সাধারণ সম্পাদক আল-আমীন শেখ বলেন, ‘বই মানুষকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। “মুমু”র মতো সাহিত্যকর্ম আমাদের ভালোবাসা, মায়া ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়।’