বিরোধী দলসহ সবাইকে নিয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার করার জন্য বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, ‘গায়ের জোরে কিছু না করা ভালো। সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। এমন কিছু করবেন না, যাতে আরও সংকটে পড়ে যান। জাতি অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যায়।’ সংবিধান সংশোধন বা সংস্কারে ব্যর্থ হলে সমস্ত দায়দায়িত্ব বিএনপির ওপর পড়ে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কার এবং সংবিধান বিতর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমস্ত জায়গায় অত্যাচারের উৎসব লেগেছে। সারাদেশে খুনোখুনি, ধর্ষণ, হামলা, গ্রেপ্তার ও মানুষের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা ঘটছে। অথচ বড় একটি গণঅভ্যুত্থানের পর এমন পরিস্থিতি হওয়ার কথা ছিল না।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, গতকাল রাতে সালমান মুক্তাদিরের একটি ভিডিও দেখছিলেন তিনি। সেখানে মানুষের স্বপ্ন কীভাবে গুঁড়িয়ে যায়, তার একটি জলজ্যান্ত চিত্র দেখা গেছে। সালমান মুক্তাদির বলছিলেন, তার নিজের শক্তি আছে এবং আবারও স্টুডিওটি দাঁড় করানোর সক্ষমতা আছে। কিন্তু সেখানে যারা চাকরি করেন, তাদের কী হবে? তার স্টুডিওটি দেশের অন্যতম আধুনিক স্টুডিও ছিল, সেটি এভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি বাড়িও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেখানে একজন মা বলেছেন, তিনি ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এত বড় অভ্যুত্থানের পর এ ধরনের পরিস্থিতি হওয়ার কথা ছিল কি না-এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার প্রশ্ন, সংস্কার কোথায়? একজন শিশু-কিশোরের জীবনের নিরাপত্তাও নেই।

নিজের দলের এক নেতার গ্রেপ্তার প্রসঙ্গ তুলে মান্না বলেন, তার এলাকা শিবগঞ্জ উপজেলা নাগরিক ঐক্যের সেক্রেটারিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি পুলিশকে ফোন করে জানতে পারেন, পুলিশের কাছে কোনো মামলা হয়নি; আদালতে মামলা হয়েছে। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতও জামিন দেয়নি। আবার জজকোর্টও তিন দিন ধরে বসেনি।

তিনি বলেন, ‘মানে তারা নিম্নআদালতও দখল করে ফেলেছে। কারা? ওই যে সালমান মুক্তাদির বলেছে না, কারা-তারাই। ওই একই লোক।’ তিনি আরও বলেন, তার সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার হয়েছেন, কিন্তু মামলার কপি দেওয়া হবে না এবং জজকোর্ট বসবে না-এটা কেমন কথা?