বাইডেন প্রশাসনের নেওয়া উদ্যোগ থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ ২০৩১ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকা গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয়-সংক্রান্ত মানদণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে শিথিল বা কমিয়ে চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। কর্মকর্তারা শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। বাইডেন প্রশাসন গাড়ি নির্মাতাদের আরও বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে বাধ্য করতে চেয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি গাড়ি ও ট্রাকের জন্য নতুন জ্বালানি সাশ্রয়-সংক্রান্ত মানদণ্ড অনুমোদন করেছেন। এর ফলে নতুন গাড়ির দাম কমবে। পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি বলেছেন, সোমবার আমেরিকার গাড়ি-শিল্পের কর্মীদের জন্য একটি বড় বিজয় আসতে চলেছে।

পরিবহন বিভাগের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, নতুন মানদণ্ডের ফলে নতুন গাড়ির দাম কমবে। তবে এর ফলে আগামী কয়েক দশকে জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ বাড়বে।

ফেব্রুয়ারির শেষভাগে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আমেরিকান গাড়িচালকরা যখন বাড়তি ব্যয়ের চাপে রয়েছেন, তখনই ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে সরকার গাড়ি নির্মাতাদের আরও বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে উৎসাহিত করেছিল, যাতে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সাশ্রয়-সংক্রান্ত মানদণ্ড পূরণ করা যায়। বাইডেন ২০২৪ ও ২০২৫ মডেল বছরের গাড়ির জন্য জ্বালানি সাশ্রয়ের আবশ্যিক হার বছরে ৮ শতাংশ, ২০২৬ সালের জন্য ১০ শতাংশ এবং ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ২ শতাংশ করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

ট্রাম্প প্রশাসন গত ডিসেম্বরে ২০২২ মডেল বছরের জ্বালানি সাশ্রয় বা ‘ফুয়েল ইকোনমি’র মানদণ্ড কমিয়ে আনার প্রস্তাব দেয়। এরপর ২০৩১ সাল পর্যন্ত এ মানদণ্ড বার্ষিক ০.২৫ শতাংশ থেকে ০.৫ শতাংশ হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়।