একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। দলীয় তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এরপর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রশ্ন, এমন পরিস্থিতির পরও সংসদে তাঁর পদ বহাল থাকে কীভাবে?

গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি বলেছে, মরিয়ামের মৃত্যুর ঘটনা এবং এর আগে তাঁর সঙ্গে ঘটা ব্ল্যাকমেইলের (ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল) বিষয়টি নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্তভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে গাজী নজরুলের সংসদীয় অবস্থান নিয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা জাতীয় সংসদ ও নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী বলা যায় না। তবে গুরুতর অভিযোগ ও নৈতিক প্রশ্নের মুখে একজন সংসদ সদস্যের জবাবদিহির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ারও সুযোগ নেই। ফৌজদারি অপরাধের দায় আদালত নির্ধারণ করবে। কিন্তু সংসদ সদস্যের নৈতিকতা, ক্ষমতার ব্যবহার ও জনগণের আস্থার প্রশ্নে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংসদের। টিআইবি জানিয়েছে, গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে দলীয় তদন্তে নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এর মধ্যে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়াম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় মরিয়ামের বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় গাজী নজরুলকে গ্রেপ্তার করে চার দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

এসব ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের কারণ নয় বলে উল্লেখ করেছে টিআইবি। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ড হলে একজন ব্যক্তি সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হন। ফলে অভিযোগ, গ্রেপ্তার, রিমান্ড কিংবা দলীয় তদন্তের সিদ্ধান্তের কারণে সরাসরি সাংবিধানিক অযোগ্যতা তৈরি হয় না। টিআইবির মতে, গুরুতর নৈতিক স্খলন, স্বার্থের সংঘাত, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্নকারী আচরণের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট বিধান থাকা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে কখন সংসদ সদস্যের পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, সেটিও আইনে নির্ধারণ করতে হবে।

ই-মেইল: [email protected], [email protected]