মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি আয়োজনবিশ্ব শিক্ষক দিবস–নাগরিক: ৫ গণিত কোচিং সেন্টার ও প্রবীর কুমার কর্মকার স্যার—একজন আলোকদিশারির গল্পলেখা: মনোজিৎ কুমার রায়প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৩: ৩৪ জীবনের পথে কিছু মানুষ আসেন, যাঁরা শুধু আমাদের পড়ান না—তাঁরা আমাদের পথ দেখান, স্বপ্ন দেখতে শেখান, আত্মবিশ্বাসী করে তোলেন এবং শেষ পর্যন্ত একজন ভালো মানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করেন। সময়ের স্রোতে তাঁদের সঙ্গে প্রতিদিনের যোগাযোগ হয়তো থাকে না, কিন্তু তাঁদের দেওয়া শিক্ষা, উপদেশ ও আদর্শ আমাদের জীবনের প্রতিটি বাঁকে কোনো না কোনোভাবে পথ দেখায়।
প্রবীর কুমার কর্মকার স্যার আমার জীবনে তেমনই একজন মানুষ—একজন শিক্ষক, একজন পথপ্রদর্শক এবং নিঃসন্দেহে একজন আলোকদিশারি।
সিরাজগঞ্জ শহরের বড় পুলের নিচে ছিল স্যারের ছোট্ট ‘গণিত কোচিং সেন্টার’। জায়গাটি হয়তো আজকের আধুনিক কোচিং সেন্টারের মতো ছিল না—ছিল না ঝকঝকে শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক প্রযুক্তি কিংবা বড় কোনো অবকাঠামো। কিন্তু সেখানে ছিল এমন একজন শিক্ষক, যাঁর জ্ঞান, আন্তরিকতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ববোধ সেই ছোট্ট জায়গাটিকে আমাদের কাছে একটি জ্ঞানচর্চার আলোকিত কেন্দ্র করে তুলেছিল।
কোচিং সেন্টারের নাম ছিল ‘গণিত কোচিং’—কিন্তু স্যারের জ্ঞানের পরিধি কোনো একটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ছিলেন প্রায় সব বিষয়েই দক্ষ। তাঁর কাছে পড়লে মনে হতো, একজন শিক্ষক শুধু একটি নির্দিষ্ট বই বা বিষয়ের মধ্যে আবদ্ধ নন; একজন প্রকৃত শিক্ষক তাঁর শিক্ষার্থীদের জানার আগ্রহ তৈরি করেন।
তাঁর ক্লাসে শুধু পড়া মুখস্থ করার বিষয় ছিল না। তিনি বুঝিয়ে দিতেন, প্রশ্ন করতে শেখাতেন, চিন্তা করতে উৎসাহ দিতেন। কোনো বিষয় না বুঝলে আবার বোঝাতেন। কোথাও দুর্বলতা দেখলে শাসন করতেন, আবার একই সঙ্গে উৎসাহও দিতেন।
আজ এত বছর পর বুঝতে পারি—তখন আমরা হয়তো ভাবতাম, স্যার আমাদের শুধু পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি আমাদের জীবনের জন্য প্রস্তুত করছিলেন।