ইসরায়েলি জাতীয় সংগীতের সময় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা। ছবি - বিবিসি

ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে কি না, তা নিয়েই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ছিল অনিশ্চয়তা। চার ঘণ্টার আলোচনা ও ভোটাভুটির পর মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেয় আয়ারল্যান্ড। তবে মাঠে নেমেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে আইরিশরা। কালো আর্মব্যান্ড, জাতীয় সংগীতের সময় মাথা নিচু করে থাকা, হাত না মেলানো এবং শেষে ৩-০ গোলের জয়, সব মিলিয়ে ইসরায়েল ম্যাচটি হয়ে উঠে আয়ারল্যান্ডের প্রতিবাদের এক ব্যতিক্রমী অধ্যায়।

ম্যাচের আগে থেকেই উত্তাপ ছিল তুঙ্গে। আয়ারল্যান্ড কোচ হেইমির হালগ্রিমসন বলেছিলেন, ‘আমরা গণহত্যার বিরুদ্ধে খেলছি।’ তার মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। হালগ্রিমসনের মন্তব্যকে ‘অজ্ঞতা ও মূর্খতা’ বলা হয়। ওদিকে দেশের জাতীয় দলের কোচের পক্ষ নিয়ে আইএফএর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান আয়ারল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন। এর মধ্যেই আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা ম্যাচটি না খেলার আহ্বান জানায়। শেষ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই), কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে চার ঘণ্টার বৈঠক শেষে ভোটাভুটিতে ম্যাচটি খেলার সিদ্ধান্ত নেয় হালগ্রিমসনের দল।

হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনের নাগিয়ারদেই স্টেডিয়ামে ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় আইরিশ খেলোয়াড়রা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের ডাগআউটেও একই দৃশ্য। ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের মধ্যে প্রচলিত করমর্দন হয়নি, অধিনায়কদের মধ্যেও পতাকা বিনিময় হয়নি। আইরিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছিল, গাজা সংঘাতে নিহতদের স্মরণেই খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরবেন।

এরপর মাঠে শুরু হয় আইরিশদের গোলের ঝড়। ১৪ মিনিটে ট্রয় প্যারট গোল করে এগিয়ে দেন আয়ারল্যান্ডকে। দুই মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অ্যাডাম ইদাহ। ২৫ মিনিটে জ্যাক ময়লানের গোলে ৩-০ লিড নেয় আইরিশরা। প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করে তারা।

ময়লানের গোল উদযাপনও হয়ে ওঠে প্রতিবাদের অন্যতম প্রতীকী মুহূর্ত। গোলের পর তিনি নিজের কালো আর্মব্যান্ড খুলে সেটি উঁচিয়ে ধরেন এবং তাতে চুমু দেন। এরপর চুমু দেন জার্সিতে থাকা আয়ারল্যান্ডের ব্যাজেও। তার এই উদযাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এই কালো বাহুবন্ধনী পরার সিদ্ধান্ত নিয়ে গত শনিবার এফএআই প্রধান নির্বাহী ডেভিড কুরেল বলেন, ‘(গাজা) সংঘাতে প্রাণ হারানো সবার স্মরণে’ এই প্রতীকী সম্মান।