মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬Loginবন্ধুদের লেখাকার্যক্রমফিচারখেলাক্যারিয়ারমনোবন্ধুফটো ফিচারবন্ধুসভা সম্পর্কে ফিচার‘খোকা ঘুমালো, পাড়া জুড়ালো, বর্গি এলো দেশে’— এই বর্গি কারালেখা: মো. আবুল বাশারপ্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০: ৩৪ প্রতীকী ছবিএআই/বন্ধুসভাপ্রতিদিনের মতো সন্তানকে ঘুম পাড়াচ্ছিলাম। ঘুমের দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য মুখে তুলে নিলাম বাংলার চিরচেনা সেই ঘুমপাড়ানি ছড়া—‘খোকা ঘুমালো, পাড়া জুড়ালো, বর্গি এলো দেশে,বুলবুলিতে ধান খেয়েছে, খাজনা দেব কিসে?’
ছড়াটি আমরা শৈশবে শুনেছি। আজ নিজের সন্তানকেও শোনাই। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা এই ছড়ার সুরে শিশুকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করি আমরা। কিন্তু একদিন হঠাৎ মনে প্রশ্ন জাগল, যে ছড়ার শুরুতেই ‘বর্গি এলো দেশে’ বলা হচ্ছে, সেই বর্গি কারা? কেন তাদের আগমন নিয়ে এমন একটি ছড়া তৈরি হয়েছিল? এই ঘুমপাড়ানি ছড়ার ভেতরে কি লুকিয়ে আছে কোনো জনপদের দীর্ঘশ্বাস?
উত্তর খুঁজতে গিয়েই পরিচয় হলো বাংলার ইতিহাসের এক বিস্মৃত, ক্ষতবাহী এক অধ্যায়ের সঙ্গে।
অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়। বাংলার শাসনকর্তা নবাব আলিবর্দি খাঁ। কৃষি, বস্ত্রশিল্প, রেশম ও বাণিজ্যে সমৃদ্ধ বাংলা তখন বাইরের শক্তিগুলোর কাছে ছিল আকর্ষণীয় ভূখণ্ড।এই সময় নাগপুরের মারাঠা শাসক রঘুজি ভোসলের নেতৃত্বে মারাঠা বাহিনী বাংলায় ধারাবাহিক অভিযান চালায়। সেনাপতি ভাস্কর পণ্ডিত ছিলেন এসব অভিযানের অন্যতম প্রধান সংগঠক। মারাঠা অশ্বারোহী বাহিনীর এক শ্রেণির সৈন্যকে বলা হতো ‘বারগির’। বাংলায় শব্দটি পরিচিতি পায় ‘বর্গি’ নামে।
১৭৪২ থেকে ১৭৫১ সাল পর্যন্ত প্রায় এক দশক ধরে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের আক্রমণ চলে। বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, হুগলি, মেদিনীপুরসহ বিস্তীর্ণ জনপদে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।রাজা-নবাবদের ক্ষমতার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষই যে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়, বর্গি আক্রমণ তার নির্মম উদাহরণ।
দ্রুতগতির অশ্বারোহী বাহিনী হঠাৎ গ্রামে প্রবেশ করে লুটপাট চালাত। ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি হতো, মানুষ হারাত তাদের শেষ সম্বল। কৃষকের গোলা, তাঁতির কর্মশালা কিংবা ব্যবসায়ীর দোকান। কোনোটিই নিরাপদ ছিল না। প্রাণ ও সম্পদ রক্ষায় বহু মানুষ ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।