সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬Loginবন্ধুদের লেখাকার্যক্রমফিচারখেলাক্যারিয়ারমনোবন্ধুফটো ফিচারবন্ধুসভা সম্পর্কে কার্যক্রমখুলনা বন্ধুসভার পাঠচক্রে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মহেশ’লেখা: ফারজানা যুথিপ্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ০০ খুলনা বন্ধুসভার ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রের আসর।সামন্ততান্ত্রিক সমাজের নির্মম শোষণ এবং এক হতদরিদ্র কৃষক ও তার অবলা প্রাণীর মধ্যকার অকৃত্রিম ভালোবাসার ট্র্যাজিক রূপ ফুটে উঠেছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী গল্প ‘মহেশ’-এ। তীব্র অনাহার, সামাজিক বৈষম্য, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং প্রতিকূল বাস্তবতার মধ্যে গফুর ও তার পোষা বলদ মহেশের আত্মিক বন্ধন বাংলা সাহিত্যের এক অবিস্মরণীয় সৃষ্টি।

১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় ‘মহেশ’ নিয়ে ভার্চ্যুয়ালি পাঠের আসর করেছে খুলনা বন্ধুসভা। গুগল মিটে এটি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ফারজানা যুথি।

পাঠচক্রের শুরুতে বন্ধু সুদীপ্ত রায় গল্পের প্রেক্ষাপট, তৎকালীন জমিদার ও সমাজপতিদের শোষণ-নিপীড়ন এবং দরিদ্র কৃষক গফুরের নিঃস্ব জীবনের হাহাকার বিশদভাবে তুলে ধরেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সৌরভ ঘোষ বলেন, ‘শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “মহেশ” গল্পের মধ্য দিয়ে কেবল এক দরিদ্র কৃষকের হাহাকার দেখাননি; বরং দেখিয়েছেন কীভাবে তৎকালীন সমাজব্যবস্থা, জাতপাত ও ধর্মের ভণ্ডামি প্রান্তিক মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে ফেলে। গফুরের সেই আর্তনাদ—“মহেশ আমার ছেলে, ও যে কথা কইতে পারে না”, আজও সমাজের অসংগতি ও নির্মম বাস্তবতার বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ। সাহিত্যের এমন ক্ল্যাসিক রচনা পাঠের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্মের চিন্তার পরিধি আরও শাণিত ও মানবিক হতে পারে।’

আলোচনায় বন্ধুরা গল্পের চরিত্র বিশ্লেষণ, সমাজকাঠামো এবং সম্পর্কের মানবিক দিকগুলো নিয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও পাঠ-অনুভূতি প্রকাশ করেন। প্রান্তিক মানুষের বঞ্চনা ও ধর্মের অনুশাসনকে ব্যবহার করে দুর্বলকে কোণঠাসা করার যে চিত্র গল্পটিতে রয়েছে, তা বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে কতটা প্রাসঙ্গিক, তা নিয়েও প্রাণবন্ত মতবিনিময় হয়।

পাঠচক্রে আরও যুক্ত ছিলেন উপদেষ্টা আসফিক আহমাদ সিদ্দিকী, সভাপতি স্বর্ণকমল রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমন মিয়া, সহসভাপতি গৌতম রায়, কার্যনির্বাহী সদস্য ফারিয়া ঝিলাম, বন্ধু হাসিবুর রহমান, আনিকা অবনী, শুভজিৎ মণ্ডল, মো. সিয়াম, লিমা আক্তার ও আল কাফি মৃদুল।