বাসের ভেতরে বিশ্রী গরম। বসে থাকতে থাকতে আমিও হারিয়ে গিয়েছিলাম জীবনের নানা অমীমাংসিত দুশ্চিন্তায়।

হঠাৎ চোখে পড়ল জীর্ণশীর্ণ পোশাকের একজন মানুষকে। ময়লার স্তূপের ভেতর থেকে তিনি কিছু পচা পেয়ারা খুঁজে খুঁজে নিজের ব্যাগে রাখছেন। কিছুক্ষণ পর সেই পেয়ারা থেকে একটি তুলে গায়ের কাপড় দিয়ে মুছে পচা অংশটা দাঁত দিয়ে ফেলে দিলেন। তারপর বাকি অংশটুকু খেয়ে ফেললেন।

মুহূর্তেই আমার নিজের সব দুশ্চিন্তা যেন এক পাশে সরে গেল। চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ালেন সেই মানুষটি।

কোন সময়ে আমরা বাস করছি? এখনো মানুষকে ময়লার স্তূপ থেকে পচা খাবার তুলে খেতে হয়! আল্লাহ আমাদের মাফ করুন।

এই দৃশ্য আমাকে কয়েক দিন ধরে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। আমরা প্রতিদিন কত খাবার অকারণে নষ্ট করি! দাওয়াতের অনুষ্ঠানগুলোতে গেলে খাবারের অপচয়ের ভয়াবহ চিত্র আরও স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। অনেক মা–বাবা সন্তানকে দাওয়াতে যাওয়ার সময় বলেন, ‘বেশি করে মাংস খেয়ো।’ কেন আমরা এটাও বলতে পারি না—‘যতটুকু খেতে পারো, ততটুকুই নিও?’ খেতে পারলে অবশ্যই খান। ভালোভাবে খান। কিন্তু খাবার নষ্ট করার মধ্যে গর্বের কী আছে?

‘টাকা উশুল করতে হবে’—এই মানসিকতা দাওয়াতের অনুষ্ঠানেই হোক কিংবা বুফেতে, খাবার অপচয়ের কোনো যুক্তি হতে পারে না।