গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আয়ােজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির নতুন ওয়েবসাইট উদ্বােধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, আইপিএফের চেয়ারপারসন নাসরিন বেগম প্রমুখ ফটাে রিলিজ

শেয়ার ও অর্থ তছরুপের শিকার হওয়া পাঁচ ব্রোকারেজ হাউসের ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৮ হাজার বিনিয়োগকারী ক্ষতিপূরণ পাবেন। এর মধ্যে ৯৭ শতাংশ তাদের পুরো অর্থ ফেরত পেতে যাচ্ছেন। ইনভেস্টরস প্রোটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে এ ক্ষতিপূরণ দেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে ডিএসই। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, আইপিএফের চেয়ারপারসন নাসরিন বেগম এবং পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন। আগামী সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ডিএসই টাওয়ারে আনুষ্ঠানিকভাবে মশিউর সিকিউরিটিজের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের হাতে চেক তুলে দিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

২০২০ সাল থেকে কয়েক বছরে ক্রেস্ট, বানকো, তামহা, শাহ মোহাম্মদ সগীর এবং মশিউর সিকিউরিটিজ নামক পাঁচ ব্রোকারেজ হাউসে আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৯২৫ গ্রাহকের মোট দাবি প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা। তবে এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার দাবির সত্যতা যাচাই করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএসইর চেয়ারম্যান। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউস থেকে ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ব্রোকারেজ হাউসগুলোর অনিয়মে ক্ষতিগ্রস্তরা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। এর ফলে প্রায় ৯৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর তাদের সমুদয় দাবিকৃত অর্থ ফেরত পেতে যাচ্ছেন। আইনি প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট হাউসগুলোর নিজস্ব শেয়ার ও সম্পত্তি বিক্রি এবং আইপিএফ থেকে অতিরিক্ত ফান্ডের মাধ্যমে তাদের সমুদয় অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাকিদের পাওনার অর্থ আরও বেশি। ডিএসইর চেয়ারম্যান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, বিচারক ও ব্যাংক কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা নিজেদের পুরো সঞ্চয় বিনিয়োগ করে এখন ভীষণ অনটন ও কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তাই অর্থ ফেরত দেওয়া কেবল কোনো আইনি পদক্ষেপ নয়, এটি ডিএসইর মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউস অনিয়ম করে বিনিয়োগকারীদের টাকা নষ্ট করায় ব্রোকার হিসেবে তারা নিজেরাও বিব্রতকর অবস্থায় ছিলেন।

ই-মেইল: [email protected], [email protected]