ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মুন্সিপাড়া গ্রামের ফিরোজা আক্তারের (৩৫) জীবনে এই দোকান নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন সদস্যের সংসারের দায়িত্ব একাই কাঁধে তুলে নেন তিনি। অভাবের সংসারে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাই যখন কঠিন, তখন মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানো হয়ে ওঠে আরও বড় চিন্তার কারণ।
সেই ফিরোজার পাশে দাঁড়িয়েছে ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভা। প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাঁকে একটি দোকানঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১১ হাজার টাকার মুদি মালামাল কিনে দিয়েছেন বন্ধুরা। দোকানটির নাম রাখা হয়েছে ‘বন্ধু স্টোর’।
এর মধ্যেও মেয়ের পড়াশোনা থামাননি ফিরোজা। ভালো ফল করে এসএসসি পাস করেছে তাঁর মেয়ে। মেয়ের এই সাফল্যে আনন্দিত হওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই আনন্দের সঙ্গে মিশে ছিল ভবিষ্যতের চিন্তা। মেয়ের পড়াশোনা কীভাবে চালাবেন, সেটিই ভাবিয়ে তুলছিল।
নিজের একটা ছোট দোকান করার ইচ্ছা ছিল ফিরোজার। তাতে সংসারের পাশাপাশি মেয়ের পড়াশোনার খরচও চালানো যেত। কিন্তু দোকানঘর তৈরি ও মাল কেনার টাকা জোগাড় করতে পারছিলেন না তিনি। এই সংগ্রামের কথা জানতে পারে ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভা। এরপর তাঁকে স্বাবলম্বী করে তুলতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংগঠনের সদস্য ও উপদেষ্টারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এ কাজে সহযোগিতা করেন।
বিকেল চারটার দিকে ‘বন্ধু স্টোর’ উদ্বোধন করা হয়। দোকান চালুর মুহূর্তে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ফিরোজা। চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘কত কষ্ট করে সংসার চালিয়েছি। ছেলেমেয়ের পড়ালেখা নিয়েও অনিশ্চয়তায় ছিলাম। এখন দোকান চালিয়ে ভালো থাকতে পারব। নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারব। এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ফিরোজা আক্তারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্য শুধু তাঁকে কিছু সহায়তা দেওয়া নয়। আমরা চাই, দোকানটি তাঁর পরিবারের নিয়মিত আয়ের একটি উৎস হয়ে উঠুক। তিনি যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, সেটিই আমাদের আনন্দ।’