শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি দূর পরবাসকৃষ্ণকলি লেখা: আবদুল্লাহ জাহিদ, আমেরিকাপ্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫: ০১ অলংকরণ: মাসুক হেলালবাংলাদেশে মেয়েদের নাম কাজল এমনি এমনি হয় না।

নামটা যেন একটা সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা—একটা অদৃশ্য কারণ। যে মা-বাবা মেয়ের গায়ের রঙে শ্যামলতার কোমল ছায়া দেখেন, তাঁরা যেন আলতো করে নামের ভেতর সেই রঙের মর্যাদা রেখে দেন—কাজল। কিন্তু সমাজের চোখে নামটা হয়ে ওঠে আরেক রকম ব্যাখ্যা—একটা অযাচিত অঙ্ক, যেটা মেয়েটাকে জন্মের পর থেকেই কষে চলতে হয়।

কাজলের বেলায়ও তাই হয়েছিল। মায়ের শাড়ির আঁচলে মুখ লুকিয়ে সে যখন পাড়ার উঠানে খেলত, তখনই শুনে ফেলত—

মায়ের চোখে তখন একটা অদ্ভুত চাপা ভয় ভেসে উঠত। কাজল সেই ভয় বুঝত না, শুধু বুঝত—তার গায়ের রং নিয়ে মানুষের কৌতূহল, বিচার, আর বিষাদ আছে।

তবু কাজল ছিল আশ্চর্য সুন্দর। গায়ের রং শ্যামল, কিন্তু সেই শ্যামলতায় ছিল নদীর জলের মতো দীপ্তি—রোদ পড়লে যেমন নদী কালচে হয়, তবু তার বুকের ওপর ঝিলমিল করে আলো। কাজলের কপালটা ছিল প্রশস্ত, ভ্রু দুটো যেন আঁকা—কোনো শিল্পীর ধৈর্য নিয়ে টানা রেখা। চোখ দুটো বড় নয়, কিন্তু গভীর—যেন চোখের ভেতরে একটা স্থির আকাশ আছে, সেখানে মেঘ আসে, যায়, কিন্তু আকাশটা থাকে নিজের মতো। তার নাকটা সোজা, ঠোঁটের কোণে সব সময় একটুখানি হাসি—যেমন শিশিরভেজা পাতার কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা পানি। আর চুল—চুল ছিল তার সবচেয়ে নির্ভার অলংকার। কোমর ছাপানো চুল। লম্বা কালো চুল, ঘাড়ের কাছে গুটিয়ে রাখলে মনে হতো যেন একরাশ রাত কাঁধে নিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। বেণি বাঁধলে সবার নজর কাড়ে। খোলা রাখলে সবাইকে চমকে দেয়।

কাজল সাজগোজ করত না খুব। সে পরত সাদা-নীল সালোয়ার কিংবা নরম কোনো রঙের শাড়ি—যেটা তাকে আলাদা করে চোখে পড়াতে চাইত না, তবু পড়াত। তার সৌন্দর্য ছিল প্রদর্শনের নয়—উপস্থিতির। মানুষ টের পেত, কেমন করে যেন—সে আছে।