মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদের বার্ষিক কার্যক্রমের তালিকা প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। তবে কিছু কার্যক্রম নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক জটিলতা। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ। এখতিয়ারবহির্ভূত কাজের অভিযোগে ডাকসুর বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ডাকসুর কার্যবিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এক বছরে ডাকসু ১২০টির বেশি বিভিন্ন বিষয়ে সভা, সেমিনার, মেলা ও কর্মশালা করেছে। ৪০টিরও বেশি নানা বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে। দোয়া ও ইফতার মাহফিল করেছে ৪০টির বেশি। চীন সফরসহ মন্ত্রণালয়, ইউজিসি প্রতিনিধি দলসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতের সংখ্যাও ৫০-এর কাছাকাছি। এ ছাড়া ৫০টির বেশি বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, শোভাযাত্রা, খেলাধুলার আয়োজন ও স্পন্সর করেছে ডাকসু। সব মিলিয়ে বছরজুড়ে তিন শতাধিক কার্যক্রম করেছে তারা।
কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, সভা-সেমিনারের পরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কাজের সংখ্যা ছিল প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, দাবি-দাওয়া পেশ, কাজের আবেদন। যার সংখ্যা দেড় শতাধিক। শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দে অটোমেশন প্রক্রিয়া চালু, সংকটকালীন আবাসন বৃত্তি, ছাত্রী হলে ভোগান্তি নিরসন, যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধের মতো মৌলিক এবং নীতি নির্ধারণী বিষয়গুলোতে শুধু প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে কাজ শেষ করেছে ডাকসু। কোনো কার্যকর সমাধান আদায় করতে পারেনি তারা।
এ ছাড়া প্রায় ২৫টি কাজে প্রশাসনের বাধার অভিযোগ করেছে ডাকসু। এর মধ্যে রয়েছে ক্যাম্পাসে রিকশা চালু, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ, খেলার মাঠ সংস্কার, নারীদের জিমনেশিয়াম উদ্বোধনসহ বড় বড় কাজে প্রশাসন বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ ডাকসু নেতাদের।
দৃশ্যমান কাজের মধ্যে ১৩টি হলের রিডিং রুমে এসি লাগানো, সেন্ট্রাল মসজিদ সংস্কার ও এসি সংযোজন, শহীদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টার সংস্কার, চেয়ার-আলমিরা স্থাপন, ছারপোকা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, হলে হলে ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের কাজ চলমান, মেডিকেল সেবা, কলাভবনে কমনরুম সংস্কার, বিভিন্ন রুটে বাস সংখ্যা বাড়ানো, সান্ধ্যকালীন বাস ও শনিবারের বাস চালু, শাটল সার্ভিস, বই প্রকাশসহ সর্বশেষ শিক্ষক মূল্যায়ন ওয়েবসাইট চালু করে ডাকসু।
তবে ডাকসুর এসব উদ্যোগে বিপাকে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বাজেটের বাইরে গিয়ে গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ। গত জানুয়ারি থেকে ডাকসুর উদ্যোগে সান্ধ্যকালীন বাসসেবা চালু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৩টি রুটে চলাচলকারী এসব বাসের একটি ট্রিপ বাড়ানোয় প্রতিদিন বাড়তি খরচ হচ্ছে ৪৫ হাজার ২৯৮ টাকা। বছরে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকা।