শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি পাঠক‘ও পারলে তুমি পারবে না কেন?’লেখা: সাজিদুর রহমান তাহসিনপ্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫: ০০ অলংকরণ: মাসুক হেলালফেসবুক স্ক্রল করতে করতে পরিচিত এক ছেলের বিদেশে বৃত্তি পাওয়ার পোস্ট চোখে পড়ল। নিচে মন্তব্যের ঘরে অভিনন্দন আর গর্বের কথার ভিড়। এমন ভালো খবর দেখে নিজেরও ভালো লাগল।
ঠিক এই পোস্টই হয়তো অন্য কোনো বাড়িতে কারও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। কেউ ফোনটা আরেকজনের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলছেন, ‘দেখেছ, অমুক কত ভালো জায়গায় সুযোগ পেয়েছে? ও পারলে তুমি পারবে না কেন?’
কথাটা হয়তো উৎসাহ দিতেই বলা হয়। কিন্তু যাকে বলা হলো, তার কানে বাজে অন্য রকম: তাহলে এত দিন যা করেছি, তার কোনো দামই নেই?
অথচ ছেলেটা কাউকে তুলনা করতে বলেনি। সে শুধু নিজের একটা ভালো খবর জানিয়েছিল। আনন্দটা ছিল ওর। তুলনাটা অন্য কারও।
এমন তুলনা অবশ্য অন্য কেউ বলার আগেই আমরা নিজেরাও করে ফেলি। একটু স্ক্রল করলেই কারও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার খবর, কারও চাকরি, কারও নতুন ফ্ল্যাট। পাঁচ মিনিটে যেন কয়েকজন মানুষের কয়েক বছরের অর্জন দেখে ফেলি। তারপর নিজের জীবনটার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ মনে হয়, সবাই এতদূর চলে গেল, আমি এখনো এখানেই কেন? আমরা ওদের হাইলাইট রিলের পাশে নিজের আন–এডিটেড ফুটেজ বসিয়ে দেখি। অন্যের জন্য খুশি হওয়া আর নিজের জন্য দুশ্চিন্তা করা, দুটো একসঙ্গেই হতে পারে।
স্ক্রিনে আমরা সাধারণত ফলটাই দেখি। কেউ হয়তো দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে সুযোগ পেয়েছে। আগের বছরের ব্যর্থতা আর অপেক্ষা পোস্টে আসে না। বৃত্তির ছবিটা দেখি, কিন্তু কত জায়গায় আবেদন করেছে, কোথায় উত্তর আসেনি, কোথায় ভুল হয়েছে, তার কতটুকুই বা জানি? রিজেকশন ই–মেইলের স্ক্রিনশট দিয়ে ‘ফিলিং গ্রেটফুল’ লেখা পোস্ট অবশ্য খুব একটা দেখা যায় না। আর সেই অসম্পূর্ণ ছবিই কখনো নিজের বিরুদ্ধে ব্যবহার করি, কখনো অন্য কারও বিরুদ্ধে।