শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি দূর পরবাসওপারে আমার ঘর মঞ্জুর চৌধুরী আমেরিকাপ্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০২: ০৪ অলংকরণ: মাসুক হেলালআমেরিকা থেকে কেউ দেশে যেতে চাইলে সেই খবর প্রকাশ করতে খানিকটা দ্বিধা বোধ করে। রাজ্যের আত্মীয় আর পরিচিতেরা নিজেদের আত্মীয়–পরিজনদের জন্য উপহারসামগ্রী নিয়ে হাজির হন। সবই জরুরি। ওষুধের বোতল, বাচ্চাদের জামা, ডায়াবেটিস বা ব্লাডপ্রেশার মাপার যন্ত্র, চকলেট, নতুন–পুরোনো আইফোন, আর এমন কিছু রহস্যময় প্যাকেট, যা হাতে দেওয়ার সময় সবাই নিচু গলায় ষড়যন্ত্র করছে, এমন স্বরে বলে ‘তেমন কিছু না। খুবই হালকা।’

এই ‘খুবই হালকা’ জিনিসগুলোর ওজন সাধারণত সাত থেকে দশ পাউন্ড হয়ে থাকে।

প্লেন একেকজন সাধারণ যাত্রীকে পঞ্চাশ পঞ্চাশ মোট এক শ পাউন্ড ওজনের মালামাল চেক ইন করার সুযোগ দেয়। যে দেশে যাচ্ছে, সে নিজের জামাকাপড় ও আত্মীয়দের জন্য উপহার নিতে গিয়ে ওজন মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর ওপর বাড়তি মাল ধরিয়ে দিলে যে ওকে এয়ারপোর্টে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়, সেটা ইচ্ছা করেই কেউ বুঝতে চান না।

এদিকে আমাদের বাংলাদেশিদের স্বভাব হচ্ছে আমরা মুখের ওপর না বলতে পারি না। কাজেই এই অহেতুক বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে অনেকেই দেশে যাওয়ার খবর একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জানাতে চান না।

সেবার সপরিবার দেশে যাচ্ছিল নাবিলা। স্বামী–স্ত্রী ও তিন সন্তানের জন্য মোট দশটা লাগেজ! পাঁচ শ পাউন্ড ওজনের মাল নিতে পারবে। ডালাসের বাঙালি কমিউনিটিতে খবর ছড়িয়ে পড়তেই তার বাড়ি ছোটখাটো কুরিয়ার অফিস হয়ে গেল। সন্ধ্যায় ওর সঙ্গে রাইসা দেখা করতে গেল। হাতে কিছু ছিল না। সে প্রায় আধঘণ্টা বসে রইল।

রাইসা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, ‘পাঠানোর জিনিস বাসায় অনেক আছে। আমি যখন যাব তখন নিয়ে যাব।’