ফিনল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর ওউলু ২০২৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ইউরোপীয় সংস্কৃতির রাজধানী’ হিসেবে নির্বাচিত শহরগুলোর একটি। এ বছর শহরটি শিল্প, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিজের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে তুলে ধরছে। সেই বৃহত্তর সাংস্কৃতিক আবহে বাঙালির দুর্গাপূজাও হয়ে উঠেছে নিজস্ব ঐতিহ্যকে অন্য সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার একটি উপলক্ষ।

২৪ অক্টোবর ওউলুর রাতিন নিওরিসোটালোতে অনুষ্ঠিত উৎসবে প্রায় ১২০ জন অংশ নেন। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ফিনল্যান্ড, পোল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজনটি হয়ে ওঠে বহুজাতিক মিলনমেলা। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মানুষও ছিলেন। ফলে পূজামণ্ডপ শুধু ধর্মীয় আচার পালনের স্থান হয়ে থাকেনি, বরং ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের কাছে বাঙালির ঐতিহ্য, শিল্প ও জীবনবোধ তুলে ধরার একটি পরিসরে পরিণত হয়েছিল।

এবারের আয়োজনের আরেকটি আকর্ষণ ছিল চিত্রাঙ্কন ও প্রদর্শনী। শিশুদের পাশাপাশি সংগঠনের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের আঁকা ছবিও প্রদর্শিত হয়। ছোট শিশুদের রঙিন তুলির আঁচড়ে ফুটে ওঠে তাদের কল্পনার জগৎ, আর বড়দের শিল্পকর্মে প্রতিফলিত হয় অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতার প্রকাশ। পূজার আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে এই প্রদর্শনী যুক্ত করে শিল্পচর্চা ও প্রজন্মের মধ্যে সাংস্কৃতিক সংযোগের একটি ভিন্নমাত্রা।

উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয় বিশেষ ভাঁজপত্র। এতে ছিল দুর্গাপূজার তাৎপর্য, ওভিসিএস আরওয়াইয়ের পথচলা, বাঙালি ঐতিহ্য ও ওউলু ২০২৬-এর সাংস্কৃতিক ভাবনা নিয়ে লেখা। পাশাপাশি বৈদিক সাহিত্য, উপনিষদ ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার নির্বাচিত বাণী ধারাবাহিকভাবে প্রদর্শনের ব্যবস্থাও ছিল। এসব বাণীর মধ্য দিয়ে মানবিকতা, ন্যায়, আত্মোপলব্ধি ও সম্প্রীতির মতো চিরন্তন ভাবনাকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। ফলে আয়োজনটি শুধু আনন্দ-উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন জ্ঞান ও দর্শনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও তৈরি করে।

আয়োজক কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পার্থ প্রতিম সরকার, সহসভাপতি উল্লাস চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ রায়, কোষাধ্যক্ষ স্বরূপ কুমার সিংহ এবং কার্যকরী সদস্য আকাশ সিনহা বাপ্পী। তাঁদের পাশাপাশি সংগঠনের সাধারণ সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সম্পন্ন হয় পুরো আয়োজন।

ওভিসিএস আরওয়াইয়ের দীর্ঘমেয়াদি ভাবনার মধ্যে রয়েছে একটি সার্বজনীন হিন্দুমন্দির প্রতিষ্ঠা, যেখানে উপাসনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক শিক্ষা, উৎসব ও কমিউনিটির সম্মিলনের সুযোগ থাকবে। এমন একটি পরিসর গড়ে তোলার লক্ষ্য, যেখানে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন পটভূমির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া আরও দৃঢ় হবে।