পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার। বৃহস্পতিবার তোলা সমকাল
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০৩ | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০৪
পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীর মর্মান্তিক নৌকাডুবির চার বছর পেরিয়ে গেলেও আউলিয়া ঘাটে এখনও অবসান হয়নি খেয়া পারাপারের ঝুঁকি। প্রতিদিন বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও কাঙ্ক্ষিত সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা। ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মহালয়া উৎসবে বোদেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার পথে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে আউলিয়া ঘাটে এক ভয়াবহ নৌকাডুবি ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৭২ জন প্রাণ হারান এবং আজও একজনের সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনার পর স্থানীয়দের দাবির মুখে ২০২৩ সালে নদীর ওপর ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি সংযোগ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে এক বছরের বেশি পার হলেও এখনও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। এতে করে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল তো করতেই হচ্ছে, পাশাপাশি ওপার থেকে কৃষিপণ্য হাটে নিতে কয়েকগুণ বাড়তি সময় ও পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। জরুরি রোগীদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিতে প্রায় ৫০ কিলোমিটার অতিরিক্ত ঘুরপথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।
স্বজনহারা ও স্থানীয়দের আক্ষেপের শেষ নেই। চার বছর আগে একমাত্র সন্তানকে হারানো বটতলী এলাকার মুক্তা রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, নৌকায় উঠলেই সেই অভিশপ্ত দিনের কথা মনে পড়ে ভয় লাগে। অন্যদিকে মাড়েয়া বাজারের ব্যবসায়ী ও শিক্ষকরা বলছেন, কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। দ্রুত সেতুটি চালু হলে এলাকার কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতি আসবে এবং মহালয়ার পুণ্যার্থীদের যাতায়াত নিরাপদ হবে। তবে জমি অধিগ্রহণ জটিলতাকে বিলম্বের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সফিউল আলম। তিনি জানান, প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং এক পাশের সেতু সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করে সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
ই-মেইল: [email protected], [email protected]