ব্রেডা থেকে ট্রেনে ঘণ্টাখানেকেই সিফল বিমানবন্দর। পোলিশ এয়ারলাইনসের রাত আটটার ফ্লাইটে ওয়ারশ যেতে হবে। সিফল ডাচ পতাকাবাহী বিমান সংস্থা কেএলএমের প্রধান হাব। বিমানবন্দরটির নিজস্ব একটা আলাদা চরিত্র আছে। বিমান চলাচলের ইতিহাস, পুরোনো উড়োজাহাজের স্মারক, প্রদর্শনী—সব মিলিয়ে যাত্রাপথে একধরনের মিউজিয়াম–মিউজিয়াম আবহ তৈরি হয়। মনে হয়, এখানে বিমান চলাচল শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়—নিজেই যেন একটি ইতিহাস।
সিকিউরিটি পেরিয়ে সোজা চলে গেলাম পোলিশ এয়ারলাইনসের স্টার অ্যালায়েন্স বিজনেস লাউঞ্জে। হাতে তখনো বেশ কিছু সময়। লাউঞ্জে বসে প্রায় তিন ঘণ্টা অফিস করলাম। ই-মেইল, জরুরি কাজ, কয়েকটি ফোন—পর্যটনের মধ্যেও করপোরেট জীবনের ব্যস্ততা থেমে থাকে না।
রাতের ফ্লাইটে সিফল ছেড়ে উড়লাম পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশের দিকে।
পোল্যান্ডের কথা উঠলেই আমার প্রজন্মের মানুষের মনে প্রথমেই যে নামটি আসে, তিনি লেস ওয়ালেসা। আমাদের ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন এক অসাধারণ রাজনৈতিক প্রতীকের নাম—শ্রমিক নেতা থেকে রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠা মানুষ। গদানস্কের শিপইয়ার্ডের শ্রমিক আন্দোলন, সলিডারিটি আন্দোলনের নেতৃত্ব, কমিউনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে গণ–আন্দোলন—সব মিলিয়ে ওয়ালেসা তখন শুধু পোল্যান্ডের নন, পূর্ব ইউরোপের পরিবর্তনেরই এক প্রতীক।
সেই লেস ওয়ালেসার দেশ পোল্যান্ডে গিয়েছি কয়েকবার। কিন্তু এবার খানিকটা সময় নিয়ে ইতিহাসের পাতায় পড়া এই দেশের কয়েকটি বিখ্যাত জায়গা দেখার ইচ্ছা হলো।
রাতের ওয়ারশ আমার কাছে প্রথমে খুব বেশি কথা বলল না। বিমানবন্দর থেকে হোটেলে যেতে যেতে জানালার বাইরে আলো-আঁধারিতে আধুনিক নগরীর রেখাচিত্র দেখছিলাম। থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল আইবিস স্টাইলস ওয়ারশ হোটেলে। হোটেলে পৌঁছে ক্লান্ত শরীর নিয়ে কিছুক্ষণ জানালার পাশে দাঁড়ালাম।