অনেক দিন থেকেই প্ল্যান করছিলাম জাপান থেকে ঘুরে আসব, আর সে ভাবনা থেকেই একদিন হুট করেই টিকিট কেটে উঠে পড়লাম ওসাকাগামী এই হাওয়াই জাহাজে।
ঠিক বেলা ৩টার কিছু সময় পরেই ল্যান্ড করল আমাদের বিমান। হাতের ব্যাগপত্র নিয়ে অন্যান্য যাত্রীদের মতো আমিও গিয়ে দাঁড়ালাম জাপানের ইমিগ্রেশনে। কিন্তু বিধিবাম, সবুজ এই পাসপোর্ট দেখলেই আলাদা করে আপ্যায়ন করতে পাশের ঘরে নিয়ে গিয়ে অনেক প্রশ্ন করবে, এটা অনুমান যদিও করেছিলাম, তবুও মনে ক্ষীণ আশা ছিল, হয়তো অন্যান্য দেশের মানুষের মতো আমিও বের হয়ে যেতে পারব, কিন্তু না, যে ভাবনা তাই সত্য হলো, সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরে সব প্রশ্ন শেষে প্রায় ২ ঘণ্টা পরে ছাড়া পেলাম।
সেখান থেকে বের হয়েই প্রথমে আমেরিকার ডলার ভাঙিয়ে জাপানের ইয়েন নিয়ে নিলাম সঙ্গে। আর এদিকে জাপানে যাওয়ার আগেই ICOCA কার্ড করে রেখেছিলাম যেটা দিয়ে সহজেই তাদের পাবলিক বাস কিংবা ট্রেনে চড়া যায়। আর সেটা দিয়েই প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে ছুটে চললাম আগে থেকে কনফার্ম করে রাখা হোটেলের গন্তব্যে।
আমার হোটেল ছিল শিন ইমামিয়া নামক একটা জায়গায়, হোটেলে চেক ইন করে আগে গোসল করে ফ্রেশ হতেই দেখি বাইরে অন্ধকার নেমেছে, এদিকে পেটে ক্ষুধাও উঁকি দিচ্ছিল, তাই ফোনে ম্যাপের সাহায্যে মুসলিম রেস্টুরেন্ট সার্চ দিতেই বেশ কয়েকটা পেয়ে গেলাম, সব থেকে কাছেরটা প্রায় ১ কিলোমিটার রেঞ্জে দেখাল, হেঁটেই রওনা দিলাম, ইচ্ছা শহরটাও একটু দেখা আর খাওয়াও সেরে নেওয়া।
হাঁটার সময় লক্ষ করলাম শান্ত এই শহরে সবাই সাইকেলে ছুটে চলছে, এখানে ইলেকট্রনিক সাইকেল তেমন নেই চায়নার মতো, এখানে সবাই এখনো তাদের কাছে ধারে চলাচলের জন্য সাইকেল ব্যবহার করে, আর সেটা বেশির ভাগই ভাড়া নেওয়া যায়। এগুলো দেখতে দেখতেই আমি পৌঁছে গেলাম রেস্টুরেন্টে, গিয়ে দেখি একজন মেয়েই কেবল সেখানে সার্ভ করছে আর আস্তে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াত চলছে। আমি মেনু দেখে অর্ডার করলাম হালাল রামেন, অর্ডার দেওয়ার পরে জানতে পারলাম, মেয়েটা ইন্দোনেশিয়ান, এখানে এসেছে প্রায় ৩ বছর ধরে কাজের সুবাদে। এটাও জানলাম যে এখানে ট্যাক্স অনেক বেশি। বেতন, খাবার, কেনাকাটা কিংবা বাসাভাড়া যাই করি না কেন, তার একটা বড় অংশ ট্যাক্সে চলে যায়।
তারপর খাওয়া শেষে তাকে ধন্যবাদ জানালাম, সে–ও আমাকে ‘আরিগাতো ওজাইমাস’ জানাল আবারও। এরপর তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে ওসাকার নাইট লাইফ দেখতে বেরিয়ে গেলাম কাছের আরেকটা জায়গায়। সেখানে যাওয়ার পথে দেখা হলো এক সাইকেল আরোহীর সঙ্গে, চেহারা দেখে বাঙালি মনে হলো, এরপর জিজ্ঞেস করতেই একগাল হেসে জানাল, সে নেপালি, এখানে পড়াশোনা করতে এসেছে, সঙ্গে এটাও জানাল তার ভাঙা ভাঙা বাংলায় যে সে বাংলাদেশকে ভালোবাসে এবং ক্লাসে তার বেশ কয়েকজন বাঙালি বন্ধুও আছে।