কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত বাংলাদেশের বৃহত্তম ও জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত এই সমুদ্রসৈকতের দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার। দীর্ঘ এই সৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক ও অখণ্ডিত সমুদ্রসৈকত। সৈকতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান লাবণী পয়েন্ট। কক্সবাজারকে পর্যটন রাজধানী বললেও কম বলা হবে না! সৈকতের নীল জলরাশি, ঝাউবন, সোনালি বালু পর্যটকদের জন্য অনিবার্য আকর্ষণ তৈরি করেছে। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ছাড়াও এই জেলায় রয়েছে আরও অনেক পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র।
সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। এটি বেঙ্গল টাইগার ও নানা ধরনের বন্য প্রাণীর আবাসস্থল। বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত সুন্দরবন একটি প্রশস্ত বনভূমি, যা বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়। এটি ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য। পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার বদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত এই অপরূপ বনভূমি বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার কিছু অংশ নিয়ে বিস্তৃত। সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখণ্ড বনভূমি। ১০ হাজার বর্গকিলোমিটারজুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬ হাজার ৫১৭ বর্গকিলোমিটার (৬২%) বাংলাদেশে এবং বাকি অংশ (৩৮%) রয়েছে ভারতের মধ্যে।
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। এর নীল জলরাশি ও নয়নাভিরাম দৃশ্যের জন্য দেশ-বিদেশে বিশেষভাবে পরিচিত। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত এই প্রবাল দ্বীপের আয়তন মাত্র আট বর্গকিলোমিটার। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে ও মিয়ানমারের উপকূল হতে পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে ‘নারকেল জিঞ্জিরা’ বলা হয়ে থাকে। এ ছাড়া এটি ‘জিঞ্জিরা’ ও ‘দারুচিনি দ্বীপ’ বা ‘দেরদিউসা দ্বীপ’ নামেও পরিচিত। বাংলাদেশের সমুদ্রপ্রেমীদের কাছে সেন্টমার্টিন ব্যাপক পরিচিত একটি নাম। দ্বীপটি তিন দিকের স্থলভাগ জোয়ারের সময় তলিয়ে যায় এবং ভাটার সময় আবার জেগে ওঠে। দ্বীপটি প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, সামুদ্রিক শৈবাল, উদ্ভিদ ও সামুদ্রিক মাছের জন্য বিখ্যাত।
সাজেক উপত্যকা রাঙামাটির একটি মনোরম পাহাড়ি এলাকা। মেঘ আর সবুজের লুকোচুরি ঘেরা এই নৈসর্গিক স্থান জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ইউনিয়নের একটি বিখ্যাত পর্যটনস্থল। এর উত্তরে রয়েছে ভারতের মিজোরাম সীমান্ত। সকাল-দুপুর-বিকেল এখানে প্রকৃতির রং বদলায়। সাজেকে সর্বত্র সাদা তুলার মতো মেঘ, পাহাড় আর সবুজের সমারোহ দেখা যায়। আবার সাজেক থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখা যায়। সাজেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস বেশ আকর্ষণীয়।
কুয়াকাটা বাংলাদেশের একমাত্র সমুদ্রসৈকত, যেখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উভয়ই দেখা যায়। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এই সমুদ্রসৈকত পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় অবস্থিত। এই সমুদ্রসৈকতটি লম্বায় ১৮ কিলোমিটার এবং বিস্তৃতিতে প্রায় ৩ কিলোমিটার। কুয়াকাটার আরেক নাম সাগরকন্যা। এই মনোমুগ্ধকর সৈকতে শীতকালে অতিথি পাখির সমাগম সবার নজর কাড়ে।
টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ হাওর। প্রায় ১২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এ হাওর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি। স্থানীয় লোকজনের কাছে হাওরটি ‘নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল’ নামেও পরিচিত। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার স্থান হিসেবে পরিচিত। হাওরের নীল জলরাশি ও নীল আকাশ দেখে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য! এ ছাড়া হাওরের উত্তর পাশে মেঘালয়ের সবুজ পাহাড় ভ্রমণপ্রেমীর হৃদয়কে রাঙিয়ে দেয়। হাওরে চাঁদের আলো আর হিমেল হাওয়া মিলেমিশে যেন এক স্বর্গসুখের হাতছানি দিয়ে ডাকে। পাখিদের কলকাকলি মুখরিত এই হাওর মাছ, পাখি ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর এক বিশাল অভয়াশ্রম। হিজল-করচের দৃষ্টিনন্দন সারি হাওরকে করেছে আরও আকর্ষণীয়। মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩০টির বেশি ঝরনা এসে এই হাওরে মিশেছে।