কিন্তু তাতে রায়হানের কাজের চাপ কমেনি। বরং বাকি তিন ঘণ্টায় তাঁকে আরও দুটি প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়, নতুন কিছু দায়িত্বও সামলাতে হয়। দিন শেষে আগের মতোই ক্লান্তি নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি।

রায়হানের অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনে—প্রযুক্তি যদি কম সময়ে বেশি কাজ করার সুযোগ দেয়, তাহলে মানুষের হাতে অবসর সময় বাড়ছে না কেন? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি সত্যিই কাজ সহজ করছে, নাকি একই সময়ে আরও বেশি কাজ করার প্রত্যাশা তৈরি করছে?

এআই নিয়ে আশাবাদীদের ধারণা, এই প্রযুক্তি কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়াবে, নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের চাপ কমাবে এবং কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবনের জন্য আরও সময় তৈরি করবে। তবে বাস্তবে উৎপাদনশীলতা বাড়লেই যে কাজের সময় কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং কিছু ক্ষেত্রে কাজের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব ও কাজের পরিমাণও বেড়ে যেতে পারে।

প্রযুক্তি বদলেছে, কমেনি কাজের সময়প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের কাজের সময় অনেক কমিয়ে দেবে, এমন আশা আজকের নয়। প্রায় এক শতাব্দী আগে, ১৯৩০-এর দশকে প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে একসময় মানুষের কর্মসপ্তাহ নেমে আসতে পারে মাত্র ১৫ ঘণ্টায়।

কেইনসের ধারণা ছিল, উৎপাদনশীলতা বাড়ার সঙ্গে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সহজ হবে। ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে কাজের অভাব নয়, বরং বাড়তি অবসর সময় কীভাবে কাটানো যায়, তা নির্ধারণ করা।কিন্তু বাস্তবতা তাঁর পূর্বাভাসের সঙ্গে মেলেনি। প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতি সত্ত্বেও অনেক দেশের মানুষকে এখনো সপ্তাহে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়।

এআইয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। প্রযুক্তির সাহায্যে কম সময়ে বেশি কাজ করা সম্ভব হলেও সেই সময়টুকু কর্মীদের বিশ্রামের জন্য ছেড়ে না দিয়ে নতুন দায়িত্বে ব্যবহার করা হতে পারে।প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই ব্যবহারকারী কর্মীরা দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি আগের চেয়ে বেশি ধরনের দায়িত্ব নিচ্ছেন এবং দীর্ঘ সময় কাজ করছেন। ২০০ কর্মীর ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় এমন প্রবণতা দেখা গেছে।