হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন—ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এমন প্রতিবেদনের পর আনুষ্ঠানিক মার্কিন জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। তবে জার্নালের ওই প্রতিবেদনটি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান এই কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানায়। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে সাত দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার জাতিসংঘে সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে পৌঁছাতে আন্তরিক হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হলে দুই পক্ষ পারস্পরিকভাবে সম্মত বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা শুরু করতে পারে বলেও জানান তিনি।
এই আলোচনার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও থাকতে পারে। তবে শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রস্তাব মেনে নিলেও পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়েও ইরান নমনীয় হবে না বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে, দেশটির জব্দ করা অর্থ ছাড় করতে হবে এবং ইরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে। একই সঙ্গে লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাত বন্ধের কথাও বলেছে তেহরান।
এর আগে একজন মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলা আলোচনাকে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।