পাঠচক্রে অংশগ্রহণকারীরা বইটির বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি সমকালীন বিশ্বরাজনীতি বোঝার ক্ষেত্রে ইতিহাস পাঠের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলোচনায় বন্ধুরা বলেন, বিশ্বরাজনীতির বর্তমান বাস্তবতা বুঝতে হলে অতীতের রাজনৈতিক ঘটনা, যুদ্ধ, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পরাশক্তিগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বইটি পাঠকদের ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা অধ্যায় নতুনভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ তৈরি করে।

সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, ‘বিশ্বরাজনীতিকে বুঝতে হলে শুধু বর্তমান ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালে হবে না, ফিরে দেখতে হবে ইতিহাসের পথরেখা। গত এক শ বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তন আমাদের শেখায়, আজকের পৃথিবী গড়ে উঠেছে বহু সংঘাত, সমঝোতা ও ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে।’

সাবেক সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্বরাজনীতি কেবল রাষ্ট্র ও ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবন, অধিকার, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ। এ ধরনের বই পাঠককে আন্তর্জাতিক ঘটনাগুলোকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে এবং ঘটনার অন্তর্নিহিত কারণ খুঁজতে সহায়তা করে।’

সাবেক সভাপতি সামিউল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘ইতিহাসের শিক্ষা হলো, কোনো ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে তার পূর্ণ তাৎপর্য বোঝা যায় না। বিশ্বরাজনীতির গত এক শ বছরের অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে থাকে নানা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব।’

সাবেক সভাপতি নাবিলা জান্নাত বলেন, ‘বই পড়ার প্রকৃত সার্থকতা তখনই, যখন পাঠ থেকে নতুন প্রশ্ন তৈরি এবং ভিন্নমত ও দৃষ্টিভঙ্গিকে বোঝার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই পাঠচক্র বিশ্বরাজনীতি নিয়ে যুক্তিনির্ভর আলোচনা, চিন্তার আদান-প্রদান ও জ্ঞানচর্চার পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করি।’

এ ছাড়া পাঠের আসরে কবি অ্যালেন সাইফুলের লেখা ‘সংসার’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ উদ্দিন ও বন্ধু মিশরী। পরে চা–চক্রে অংশ নেন সবাই। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু মাহিন ফয়সাল, হাসান করিম, শারাফাতসহ অন্য বন্ধুরা।