শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬Loginপদার্থবিজ্ঞানপ্রযুক্তিগণিতমহাকাশজীববিজ্ঞানকার্যকারণবিজ্ঞান কল্পগল্পকমিকসবিজ্ঞানরম্যসাক্ষাৎকার রসায়নরসায়ন: সহজ পাঠ আলকেমি থেকে রসায়ন কাজী আকাশ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭: ০০ ১৭ শতক। প্যারিস।

গবেষণাগারে বসে আছেন নিকোলাস ফ্লামেল। মুখে অনেক দিনের না কাটা দাঁড়ি, মাথায় এলোমেলো চুল। নিবিড় মনযোগে কী সব যেন মেশাচ্ছেন। একটুখানি থামলেন। কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন হাতের বিকারের দিকে। তারপর গাল দিলেন বিড়বিড় করে। এবারও হলো না।

কত নির্ঘুম রাত, কঠোর পরিশ্রম! সবকিছুর উদ্দেশ্য একটাই। পরশপাথর বানানো। এর আরেক নাম ‘এলিক্সার অব লাইফ’। প্রাচীন ভারত ও তিব্বতের দিকে এটি পরিচিত শাংগ্রিলা নামে। কেউ কেউ আবার একে বলেন সাম্ভালা। হ্যারি পটারে একে বলা হয়েছে “ফিলোসফার'স স্টোন”। আসলে একই জিনিস—পরশপাথর। সাধারণ যেকোনো পদার্থকে যে বদলে দেয় স্বর্ণে। মানুষকে দেয় অমরত্ব।

ওপরের দৃশ্যকল্পটি আসলে সত্যি, তেমনটা মনে হয় না। ইতিহাস বলে, নিকোলাস ফ্লামেল আসলেই ছিলেন। তবে তিনি পরশপাথর বানানোর চেষ্টা করেছেন, এমন কোনো সত্যিকার প্রমাণ ইতিহাসে মেলে না। কারণ, নিকোলাস ফ্লামেল বেঁচে ছিলেন ১৩৩০ থেকে ১৪২৮ সাল পর্যন্ত। আর ফ্লামেলের পরশপাথর গবেষণার কিংবদন্তী ১৭ শতকের। এই কিংবদন্তী মতে, ফ্লামেল শেষপর্যন্ত আসলেই বানিয়েছিলেন পরশপাথর। পেয়েছিলেন অমরত্ব। এ ধরনের বক্তব্য নানা ধরনের প্রশ্নের জন্ম দেয়। মেলে না এর কোনোটির জবাব। তবে যেকোনো পদার্থকে স্বর্ণে পরিণত করা ও অমরত্ব লাভের চেষ্টা করেছেন, এমন অনেক মানুষের পরিচয় পাওয়া যায় ইতিহাসে। তাদের নাম আলকেমিস্ট। আর, পরশপাথর বানানোর চেষ্টায় চর্চিত জ্ঞানের নাম আলকেমি। বাংলায় বলা হয় অপরসায়ন।

আলকেমি নামটি এসেছে ‘আল কিমিয়া’ থেকে। খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে আরবরা যখন মিশর দখল করে নেয়, তখন তারা মিশরের এ নাম দেয়। ‘আল কিমিয়া’ অর্থ ‘কালো মাটির দেশ’। মিশরের শুকনো মরু মাটির রং ছিল লাল। নীলনদের পানি এর যে অংশটিতে এসে পড়ত, সে অংশ পানির ছোঁয়ায় কালো হয়ে যেত। সেজন্যই এমন নামকরণ।

ইতিহাসে পাওয়া যায়, এরকম এক বিখ্যাত আলকেমিস্টের নাম জোসোমিস অব প্যানোপোলিস। মানে, প্যানোপোলিসের জোসিমোস। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের শেষ ও চতুর্থ শতকের শুরুর দিকের মানুষ তিনি। সারাটা জীবন ব্যয় করেছেন এ কাজে। এরকম আরও অনেক বিখ্যাত আলকেমিস্ট আছেন। তাঁদের নামের তালিকা না দিয়ে আমরা বরং ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত আলকেমিস্ট ও পদার্থবিজ্ঞানের বরপুত্রের গল্প শুনি। তিনি আইজ্যাক নিউটন।