বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬Loginবন্ধুদের লেখাকার্যক্রমফিচারখেলাক্যারিয়ারমনোবন্ধুফটো ফিচারবন্ধুসভা সম্পর্কে ফিচারআন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে মনোনয়ন পেল বন্ধুসভার তিন বন্ধুলেখা: আবু তাহের বিল্যাহপ্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪: ০৮ জামিউল হাসান, সুদীপ্ত দেবনাথ ও মুশফিক উর রহমানশিশুদের ‘নোবেল’ হিসেবে পরিচিত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার–২০২৬–এর জন্য মনোনীত হয়েছে প্রথম আলো বন্ধুসভার তিন বন্ধু। তারা হলো সাতক্ষীরা বন্ধুসভার সুদীপ্ত দেবনাথ (১৭) ও মুশফিক উর রহমান (১৭) এবং সিলেট বন্ধুসভার জামিউল হাসান (১৭)। শিশু সুরক্ষা, অধিকার রক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও শিক্ষার প্রসারে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তারা এ মনোনয়ন পেয়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের ওয়েবসাইট নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সংস্থা কিডসরাইটস–এ ২০২৬ সালের মনোনীত শিশুদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালেও এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল সুদীপ্ত দেবনাথ।

সুদীপ্ত ও মুশফিক দুজনই সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিনের এই দুই বন্ধু শিশু অধিকার ও সামাজিক সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে একসঙ্গে কাজ করছে। সুদীপ্ত দেবনাথ বর্তমানে সাতক্ষীরা বন্ধুসভার পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। অন্যদিকে মুশফিক উর রহমান বন্ধুসভার একজন সক্রিয় সদস্য।

চার বছর ধরে উপকূলীয় অঞ্চলের শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করছে দুই বন্ধু। বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিক্ষাবঞ্চনার মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে গ্রাম ও অনলাইন—দুই মাধ্যমেই সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে। তাদের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে পরিবার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে।

এদিকে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ও শিক্ষার অধিকার নিয়ে কাজ করছে সিলেটের জামিউল হাসান। শিশুদের বিভিন্ন সংকট ও অধিকারবঞ্চনার বিষয়গুলো মানুষের সামনে তুলে ধরতে সে সাংবাদিকতাকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। শিশু সাংবাদিক হিসেবে হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে নিয়মিত বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। তার প্রকাশিত প্রতিবেদনে শিশু, শিক্ষা, জলবায়ু, সমাজ ও স্থানীয় বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে সুদীপ্ত দেবনাথ বলে, ‘আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে ভীষণ আনন্দিত। শিশুদের নিয়ে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চাই।’