পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ, সংঘাত ও ধ্বংসের পরও মানুষকে দেখেছি ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়াতে। ধ্বংসস্তূপ থেকে তারা নতুন রাষ্ট্র নির্মাণ করেছে, বদলে দিয়েছে প্রশাসন, অবকাঠামো ও নাগরিকসেবা। বাংলাদেশও মাত্র ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে—এটি আমাদের ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা কেন কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জায়গায় পৌঁছাতে পারলাম না?

অবশ্যই আমাদের দেশে উন্নয়ন হয়েছে। রাস্তাঘাট, সেতু, কলকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শপিং মল—অনেক কিছুই হয়েছে। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ, সততা ও নাগরিক আচরণে কি একই মাত্রায় পরিবর্তন এসেছে? বরং কোথাও কোথাও মনে হয়, সভ্যতার বাহ্যিক চাকচিক্যের আড়ালে আমরা আরও বেশি অসহিষ্ণু, স্বার্থপর এবং অনিয়মপ্রবণ হয়ে উঠছি।

‘সোনার বাংলা’ কথাটি আমরা গর্ব করে বলি। কিন্তু যে দেশের সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থে লুটপাট হয়, সেই সম্পদকে কতটা অর্থবহভাবে ‘দেশের সম্পদ’ বলা যায়, সেটিও ভাবার বিষয়।

আমার আজকের লেখার মূল বিষয় অবশ্য এত বিস্তৃত নয়। আমি শুধু আমাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিশেষ করে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।

আমি নিজেও পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেছি। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের বিমানবন্দর দেখারও সুযোগ হয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, চীন কিংবা ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর বিমানবন্দরের সঙ্গে আমাদের তুলনা না হয় বাদই দিলাম। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের অনেক প্রাদেশিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তুলনা করলেও আমাদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অনেক বাস্তবতা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় ঢাকার বিমানবন্দরে নামার আগেই অনেক যাত্রীর মনে একধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়—নামার পর কী ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হবে? ইমিগ্রেশন, লাগেজ সংগ্রহ, পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা, বিভিন্ন ধরনের হয়রানি কিংবা সেবার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা—সব মিলিয়ে একজন যাত্রীর দেশে ফেরার আনন্দ অনেক সময়ই ম্লান হয়ে যায়।