মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬DonateLoginপ্রচ্ছদকার্যক্রমছবিভিডিওট্রাস্ট সম্পর্কেAbout Prothom Alo TrustContactUpdatesপ্রথম আলো আলোর পাঠশালাএগিয়ে যাওয়া অভাবের সংসারে আশার আলো জ্বেলেছেন প্রবাসী শরীফনিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১: ৫৮ প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত মদনপুর আলোর পাঠশালা থেকে ২০২১ সালে এসএসসি পাস করেন মো. শরীফ।নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো সংসারে অভাব নিত্যদিনের সঙ্গী ছিল। দিনমজুর বাবার সামান্য আয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবার চালানোই যেখানে ছিল দায়, সেখানে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ জোগানো ছিল এক অলীক কল্পনা। কিন্তু সব প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আজ সেই পরিবারে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যের হাসি ফিরিয়েছেন বড় ছেলে মো. শরীফ।
মো. শরীফের বাড়ি ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরে। বাবা মো. কামাল হোসেন পেশায় একজন জেলে, আর মা মোসাম্মৎ ফাতেমা গৃহিণী। চার ভাইবোনের মধ্যে শরীফ সবার বড়। চরম আর্থিক অনটনের মধ্যেও অদম্য ইচ্ছা নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। ২০২১ সালে প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত মদনপুর আলোর পাঠশালা থেকে সফলভাবে এসএসসি পাস করেন। এসএসসি পাসের পর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থাকলেও বাস্তবতার নির্মম সত্য তাঁর সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়। ছোট তিন ভাইবোনকে মানুষ করতে হবে, সংসারের টানাপোড়েন ঘোচাতে হবে—এই তাগিদে পড়াশোনা থামিয়ে দিয়ে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে নেন শরীফ।
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ২০২২ সালে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। বর্তমানে সেখানে একটি স্বনামধন্য কোম্পানিতে গাড়িচালক (ড্রাইভার) হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি। প্রবাসের কঠোর পরিশ্রমের উপার্জিত প্রতিটি টাকা তিনি পাঠাচ্ছেন পরিবারের কল্যাণে।
প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত মদনপুর আলোর পাঠশালার সাবেক শিক্ষার্থী মো. শরীফ প্রবাসে গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত।আজ শরীফের কল্যাণে অনেকাংশে ঘুচে গেছে তাঁদের দীর্ঘদিনের অভাব। তাঁর ছোট ভাইবোনেরা নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের মধ্যে এক ভাই বর্তমানে মদনপুর আলোর পাঠশালায় নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। শুধু ভাই-বোনদের পড়াশোনাই নয়, পুরো পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্বও এখন একা কাঁধে নিয়ে নিয়েছেন এই তরুণ।
ছেলের এই সাফল্যে আজ গর্বিত বাবা মো. কামাল হোসেন। হাসিমুখে তিনি বলেন, আগে শরীফ যখন পড়াশোনা করত, তখন তার একার খরচ চালানো ও সংসার সামলানো আমাদের জন্য ভীষণ কষ্টকর ছিল। আল্লাহর রহমতে এখন আমার ছেলে বিদেশে থেকে সব ভাই-বোনের পড়ার খরচ চালাচ্ছে এবং সংসারটা খুব ভালোভাবে চলছে। আপনারা আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।’