রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি আয়োজনঅপ্রতিমের অকালপ্রয়াণ: আমাদের শিশুদের এমন করুণ পথ কে গড়ে দিল!লেখা: ফারদিন ফেরদৌসপ্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬: ২১ ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমমানুষের পৃথিবীতে সন্তান হলো ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠতম আশীর্বাদ। ১৩৮০ কোটি বয়সী বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে আমাদের নীল গ্রহ পৃথিবীর বয়স ৪৫৪ কোটি বছর। এর মধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী হোমো স্যাপিয়েন্স তথা মানবপ্রজাতির বয়স তিন লাখ বছর। যে মানুষ ৩ লাখ বছর ধরে তার পূর্বপুরুষের জিন বয়ে চলেছে, যেই মানুষ তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ক্রমবর্ধমান এই ইউনিভার্স কিংবা কসমসকে চিনে নিচ্ছে—সেই মানুষকে সবার ওপরে রেখেছেন মহামহিম ঈশ্বর। মায়ের উদর থেকে সাবালক হওয়া পর্যন্ত নিজের প্রিয়তর সন্তানকে কত যত্ন, আদর, আহ্লাদই না করেন মা–বাবা। ওই মা–বাবা যদি দেখেন তাঁর অল্পবয়সী কোমলমতি শিশুটি অপঘাতে প্রাণ হারিয়ে ফেলল, কেমন লাগে তাঁদের? পুরো আকাশ মাথায় ভেঙে পড়ে না? পৃথিবীর তাবৎ মেঘ কারুণ্যের বৃষ্টি হয়ে ঝরে না?
কী দোষ ছিল শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের? কেন তার প্রাণ এভাবে অকালে কেড়ে নেবে সমাজচ্যুত পতিত পাবনেরা? এর পেছনে কি কেবলই একটি আইফোনের লোভ? নাকি ভেঙে পড়া সমাজ বাস্তবতার অমোঘ উদাহরণ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া?
অপ্রতিমের দুঃখী মা–বাবা কী নিয়ে বাঁচবেন এখন? কোন আশায় সন্তানহারা পৃথিবীর আলো–বাতাস একাকী গ্রহণ করে ফুল, পাখি, লতাপাতা, হেমন্তে প্রভাত সূর্যের বিপরীতে দূর্বাঘাস কিংবা মাকড়সা জালে শিশিরের অপার্থিব সৌন্দর্য উপভোগ করবেন? জলহীন লাউয়ের ডগার মতো নুইয়ে পড়া জীবনকে কী জবাব দেবে ওরা?
এই দেশে যবে থেকে ইন্টারনেট, স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া সহজলভ্য হয়ে গেছে এবং যবে থেকে ইয়াবা-মাদকব্যবসায়ীরা আইনপ্রণেতার চেয়ারে বসে গেছে; ঠিক তবে থেকেই এই জাতির চূড়ান্ত পতন নিশ্চিত হয়ে গেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে মাদক। আর মুর্খ, অশিক্ষিত ও বোধহীন নেশাখোরেরা ইন্টারনেট থেকে বিচিত্রসব অপরাধপ্রবণতা রপ্ত করে নিয়েছে।
খেয়াল করলেই দেখবেন, আপনার আমার সন্তান পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে খোলামেলা কোনো কথা বলে না। মা-বাবা মুঠোফোনে স্ক্রল করতে থাকেন। আর ছেলেমেয়েরাও মাথানিচু করে গেম খেলতে থাকে। এর মধ্যে ছেলেশিশুরা বয়োসন্ধিতে পৌঁছানোর আগেই দুষ্ট বন্ধুর পাল্লায় পড়ে ইয়াবা-গাঁজাসহ বিচিত্র মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। ক্লাস ফাইভে ওঠার আগেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের জৈবিক সম্পর্কের আদ্যোপান্ত শিখে ফেলে শিশু ও কিশোরেরা।
এসব শিশু আর আপনার ভালোবাসার কাঙ্গাল থাকে না। ওরা বিকৃত আনন্দ পায় মুঠোফোনের স্ক্রিন আর বন্ধু সমভিব্যাহারে। মা ও বাবার প্রেমময় অভিভাবকত্বের সঙ্গে ঠিক এভাবেই সন্তানের বাঁধন কেটে গেছে। এর সর্বশেষ ও সবিশেষ করুণ পরিণতি দেখতে পেলাম কুমিল্লার লালমাই সানন্দা পাহাড়ে। শিশু অপ্রতিমের নিথর দেহ। বন্ধু অথবা এলাকার বড় ভাইয়েরা ছলচাতুরি করে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে অপ্রতিমের প্রাণপাখিটা কেড়ে নিয়ে নিশ্চিত বুনোউল্লাসে মেতেছিল। খুনিরা না জানে বিচারের পরিণতি, না শিখেছে জীবনবোধ। এর মধ্যে যদি ওরা নেশাগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। সব শুভবোধ ও হিতাহিত জ্ঞান খেয়ে নিয়েছিল মাদকের নেশা।