চট্টগ্রাম বন্দরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে আনা দুটি চালানে প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ টন সন্দেহজনক পণ্য পাওয়া গেছে। কাস্টমস নথিতে এক চালানে পান মসলা ও জর্দা এবং অন্য চালানে প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ ঘোষণা করা হলেও কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া গেছে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ টন তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী ও বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থ এবং ৯ দশমিক ২৬ টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার।
রোববার চালান দুটি শনাক্ত করেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) কর্মকর্তারা। তবে পাউডারজাত পদার্থে মাদক বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ কিংবা নিয়ন্ত্রিত উপাদান রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পর এর প্রকৃত পরিচয় জানা যাবে।
সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানায়, চালানের কাগজপত্রে আমদানিকারক হিসেবে অথৈ এন্টারপ্রাইজের নাম থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, এ আমদানির বিষয়ে তিনি বা তাঁর প্রতিষ্ঠান কিছুই জানেন না। তাঁর দাবি, কোনো অসাধু চক্র তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে চালানটি দেশে এনেছে।
কাস্টমস নথি অনুযায়ী, এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস’ জাহাজে কলকাতা থেকে চালান দুটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। ২০ সেপ্টেম্বর জাহাজটি কলকাতা থেকে যাত্রা করে এবং ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। একই মাস্টার বিল অব লেডিংয়ের অধীনে দুটি হাউস বিল অব লেডিংয়ে পণ্য দুটি আমদানি দেখানো হয়।
প্রথম চালানে ৪৭৩ প্যাকেজে ‘পান মসলা অ্যান্ড জর্দা (চিউইং টোব্যাকো প্রোডাক্ট)’ ঘোষণা করা হয়। এর ঘোষিত ওজন ছিল ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি। রোববার কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০ প্যাকেজে ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী পাওয়া যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থও পাওয়া গেছে।
দ্বিতীয় চালানে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজে ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’ ঘোষণা করা হয়। এর ঘোষিত ওজন ছিল ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি। কায়িক পরীক্ষায় একই সংখ্যক প্যাকেজে ৯ হাজার ২৬৩ কেজি বা প্রায় ৯ দশমিক ২৬ টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া যায়।