বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি নাগরিক সংবাদআন্তর্জাতিক অণুজীব দিবস ২০২৬, ১৭ সেপ্টেম্বর অদৃশ্য জীবাণু, দৃশ্যমান অবদান: মাইক্রোবায়োলজিস্টদের গল্পলেখা: মনোজিৎ কুমার রায়, মাইক্রোবায়োলজিস্টআপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ৫৭ ফাইল ছবিজীবাণু শব্দটির সঙ্গে আমাদের পরিচয় সেই ছোটবেলা থেকেই। ছোটবেলায় জ্বর-সর্দি-কাশি হলে চিকিৎসকের কাছে গেলে প্রায়ই শুনতাম—‘ভাইরাল ফিভার।’ তখন প্রশ্ন করতাম, ‘ভাইরাল আবার কী?’

চিকিৎসক খুব সহজ করে বোঝাতেন—ভাইরাস অতি ক্ষুদ্র একধরনের জীবাণু, যা খালি চোখে দেখা যায় না। বিভিন্ন ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। আবার ভাইরাস ও অন্যান্য অণুজীবকে কেন্দ্র করে রোগ প্রতিরোধ, টিকা উন্নয়ন ও বিভিন্ন জৈবপ্রযুক্তিগত গবেষণাও পরিচালিত হয়। ভাইরাসের পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্রটোজোয়া এবং আরও নানা ধরনের অণুজীব আমাদের পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সেখান থেকেই হয়তো জীবাণু সম্পর্কে আমার প্রথম কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। পরে বুঝেছি, সব অণুজীব মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং অণুজীবের বিশাল একটি অংশ পরিবেশ, খাদ্য, কৃষি, শিল্প, মানবদেহের স্বাভাবিক জীবপ্রক্রিয়া এবং গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিছু অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে, আবার কিছু অণুজীব মানুষের উপকার করে এবং রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখে।

এই বিশাল ও বৈচিত্র্যময় অণুজীবজগৎকে জানা, তাদের বৈশিষ্ট্য, আচরণ, পরিবর্তন, রোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়া, নিয়ন্ত্রণ এবং উপকারী ব্যবহার সম্পর্কে গবেষণা করাই অণুজীববিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। আর এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত অণুজীববিজ্ঞানীরা।

মনে পড়ে সেই দিনগুলোর কথা। ২০২০ সালে করোনা সংক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো পৃথিবীর মানুষ এক অভূতপূর্ব আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, পিপিই—যেসব জিনিস সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ ছিল না, সেগুলো রাতারাতি হয়ে উঠল অপরিহার্য।

‘লকডাউন’ শব্দটিও আমাদের জীবনের অভিধানে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিল। ঘরবন্দী জীবন, রাস্তায় নীরবতা, পিপিই পরা মানুষ, হাসপাতালের ব্যস্ততা-সবকিছুই ছিল অভূতপূর্ব।